close


কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গঠনতন্ত্র (৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৩ তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় কাউন্সিল কতৃক সংশোধিত ও অনুমোদিত) ১. সংগঠনের নামঃ এই সংগঠনের নাম কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ । ২.লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঃ সন্ত্রাসহীন কলুষমুক্ত সৎ রাজনীতির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমাজের সর্বস্তরে সৃজনশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠন এবং অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে নিোক্ত নীতিসমূহ বাস্তবায়নে এই সংগঠন ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালাবেঃ (ক) দেশের সকল পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অঙ্গীকারকে সুপ্রতিষ্ঠাসহ মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখা সকল গুরুত্বপূর্ণ সামরিক - বেসামরিক ব্যাক্তিদের সমালোচনার উর্দ্ধে রেখে যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করা। (খ) সকল ধর্ম পালনের অবাধ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সহ ধর্ম- বর্ণ ও কৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। (গ) মানুষের কর্মের নিশ্চয়তা বিধান। সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ সমাজ তথা মানুষের সার্বিক মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা সহ বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে বায়ু ও শব্দ দূষণ প্রতিরোধ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। (ঘ) কৃষক শ্রমিকসহ সকল মেহনতী অনগ্রসর জনগণের উপর থেকে শোষণের অবসান। সর্বক্ষেত্রে গ্রামীণ উন্নয়ন, যান্ত্রিক চাষাবাদের মাধ্যমে কৃষিতে আমূল পরিবর্তন সাধন। শিল্পের প্রসার ও উৎপাদন বৃদ্ধি। উৎপাদিত কৃষি ও শিল্পপণ্যের উপর কৃষক ও শ্রমিকের অংশীদারিত নিশ্চিত করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন। (ঙ) পর্যায়ক্রমে দুই কোটি বেকারের কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব দূরীকরণ। সামাজিক প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্যপূণর্ সহজলভ্য গণমূখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন। (চ) সমাজের দূর্বল অংশ হিসেবে অসহায় নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের অধিকার সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। (ছ) গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় জ্বালানী ও বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ করা। (জ) খাস জমি বেআইনী দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করে প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে সরবরাহ করা। (ঝ) মুক্ত জলাশয়ে সাধারনের অবাধ মাছ ধরা সহ অন্যান্য অধিকার প্রদান। (ঞ) অবসরপ্রাপ্ত সামরিক, আধা- সামরিক, বেসামরিক ও আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ পেনশন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দান এবং তাদের মাসিক রেশন নিজ নিজ থানা অথবা উপজেলা থেকে সংগ্রহের ব্যবস্থা করা। (ট) বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি রিন সুদসহ মওকুফ ও উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য প্রদান। সার, পানি, বিদ্যুৎ ও কীটনাশক সহ কৃষি যন্ত্রপাতির মূল্য স্থিতিশীল রাখা। (ঠ) জাতির গৌরব মুক্তিযোদ্ধাদের হত গৌরব পুনঃ প্রতিষ্ঠা এবং সকল মুক্তিযোদ্ধাকে প্রতি মাসে দশ হাজার টাকা করে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা প্রদান এবং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাতির মানসপটে মুক্তিযুদ্ধ্েক সমুজ্জ্বল করা। (ড) স্বাধীনতা যুদ্ধে খেতাব প্রাপ্ত সকল মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য আইনানুগ রাষ্ট্রীয় সুযোগ -সুবিধা প্রদান করা। (ঢ) সকল নন -এমপিও বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের সমপর্যায়ের সুযোগ- সুবিধা প্রদান। (ণ) অনুমোদিত সকল জামে মসজিদের ইমামদের সরকারি চাকুরীজীবি হিসেবে ঘোষণা করে তাদের সরকারী কাঠামো অনুসারে বেতন -ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ- সুবিধা প্রদান। মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও একই রকম সুবিধা প্রদান ও মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সরকারী খরচে বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ করা। (ত) চাকুরির উদ্দেশ্যে বিদেশে পাঠানোর নাম করে অবৈধ আদম ব্যবসায়ীরা গ্রামের মানুষের যে অর্থ আতসাৎ করে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান এবং প্রমান সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারী তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, সহজ শর্তে ব্যাংক িিরন প্রদানের মাধ্যমে বিদেশে প্রেরণের ব্যবস্থা ও বিদেশে বসবাসকারীদের উপার্জিত অর্থ সরকারীভাবে দেশে আনার সহজ পদ্ধতির প্রবর্তন করা। দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান নিশ্চিত করা এবং বিমান বন্দরে তাদের হয়রানি বন্ধ করা। (থ) হত্যা, সন্ত্রাস, খুন, রাহাজানী, ঘুষ এবং দুনীতির মূলোৎপাটন ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঘৃণা সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজের সর্বক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও যথাযথ ্আইন প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পূনরুদ্ধার এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আন্তঃ দুনিয়ার সকল জাতি ও রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন। ৩. সংগঠনের পতাকা: এই সংগঠনের পতাকা ৫ঃ৩ আনুপাতিক হারে সাদা জমির উপর সবুজ, লাল ও সোনালী পর্যায়ক্রমে ছোট হয়ে আসা চারদিক বেষ্টনী।

৪.গঠন প্রণালীঃ নিলিখিত সাংগঠনিক ইউনিটের সমন্বয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গঠিত হবেঃ (ক) কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ কাউন্সিল (খ) কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জাতীয় কমিটি (গ) কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ কার্যনির্বাহী কমিটি (ঘ) কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জেলা কমিটি (ঙ) কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ মহানগর, পৌর, শহর কমিটি (চ) কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ উপজেলা/থানা কমিটি (ছ) কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ইউনিয়ন কমিটি (জ) কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ওয়ার্ড ও গ্রাম কমিটি প্রয়োজন হলে বিশেষ অঞ্চল ভিত্তিক আঞ্চলিক কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া , (ঝ) সংসদীয় কমিটিঃ সংসদে দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে সংসদীয় কমিটি গঠিত হবে। (ঞ) সংসদীয় বোর্ড ঃ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জাতীয় কমিটি ৭ (সাত) সদস্যের সংসদীয় বোর্ডের কাছে সর্বনি ৩ (তিন) ও সর্বোচ্চ ৭ (সাত) জন প্রার্থীর সুপারিশ প্রেরণ করবে। সুপারিশকৃত প্রাথীদের মধ্যে থেকে সংসদীয় বোর্ড ১(এক) জন অথবা প্রয়োজনে (২) জন প্রাথীকে মনোনয়ন প্রদান করবে। ( প্রথম প্রার্থীর মনোনয়নে কোন জটিলতা দেখা দিলে যাতে দ্বিতীয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারেন।) ৫.সদস্য পদ ঃ (ক) সংগঠনে দুই ধরনের সদস্যপদ থাকবে। যেমনঃ প্রাথমিক সদস্য ও সাধারণ সদস্য । (খ) বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত অখন্ডতা ও সংবিধানের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়িক সংগঠনের নীতিমালা ও আদর্শের প্রতি আস্থা জ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্ক নারী পুরুষ নির্বিশেষে ১০.০০ (দশ) টাকা চাঁদা প্রদানের মাধ্যমে এই সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য হতে পারবেন। প্রাথমিক সদস্যপদ প্রাপ্তির পর যে কোন সাংগঠনিক ইউনিটের সভার অনুমোদন সাপেক্ষে সাধারণ সদস্যপদ পাবেন। সাধারণ সদস্য হিসেবে অর্ন্তভুক্ত হওয়া ব্যতিরেকে কেউ সংগঠনের কর্মকর্তা নির্বাচিত হতে পারবেন না। (গ) এই সংগঠনের মূল ও সহযোগী সংগঠনের সকল সদস্যের বাৎসরিক ১০০.০০ (একশত) টাকা চাঁদা প্রদান করে সদস্য পদ নবায়ন করতে হবে। তবে ছাত্রদের সদস্যপদ নবায়ন ফি বাৎসরিক ৫০.০০(পঞ্চাশ) টাকা। ৬.সদস্যপদের মেয়াদ ঃ দলীয় সদস্যপদ ইংরেজী বছরের ১ লা জানুয়ারী থেকে ৩০ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ৭. সদস্যপদের অযোগ্যতা ঃ কোন সদস্য এই সংগঠনের সদস্যপদ হারাবেন যদি - (ক) অন্য কোন রাজনৈতক দলের সদস্য হন। (খ) কোন প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বা দেশদ্রোহীতার সাথে সারাসরি যুক্ত হন এবং তা প্রমাণিত হয়। (গ) দলীয় আদর্শ ও সংগঠন বিরোধী কাজে যুক্ত হন এবং তা প্রমাণিত হয়। (ঘ) সংগঠনের নির্ধারিত চাঁদা পরিশোধ না করেন। (ঙ) লিখিতভাবে পদত্যাগ এবং তা কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত হয়। ৮. সহযোগী সংগঠন ঃ (ক) সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার প্রতনিধিদের সমন্বয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সহযোগী সংগঠন গঠিত হবে। যেমনঃ কৃষক আন্দোলন, যুব আন্দোলন , আইনজীবী আন্দোলন , নারী আন্দোলন,ব্যবসায়ী আন্দোলন ,হকার্স আন্দোলন, তাতীঁ আন্দোলন,মৎসজীবি আন্দোলন ইত্যাদি । (খ) সহযোগী হিসেবে ছাত্র এবং শ্রমিক সংগঠন না থাকলেও ছাত্র ও শ্রমিকদের ন্যায় সঙ্গত আন্দোলনে যেকোন সংগঠন কে সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।্ (গ) সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্দিষ্ট সংখক সদস্য কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সংশ্লিষ্ট স্তরের ডেলিগেট হিসেবে গণ্য হবেন। সহযোগি সংগঠনের সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক বা প্রতিনিধি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সংশ্লিষ্ট স্তরের কমিটির সভায় আমন্ত্রিত হিসেবে যোগ দিতে পারবেন।

 

Next >